পৃথিবীতে দাজ্জাল আগমনের তিন বছর পূর্বে পৃথিবীতে যা ঘটবে যেনে নিন ।
আখেরি জামানায় কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে। দাজ্জালের আগমন কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার সবচেয়ে বড় আলামত। মানবজাতির জন্য দাজ্জালের চেয়ে অধিক বড় বিপদ আর নেই। বিশেষ করে সে সময় যে সমস্ত মুমিন জীবিত থাকবে তাদের জন্য ঈমান নিয়ে টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। দাজ্জাল শব্দটির দাজলুন থেকে নির্গত অর্থ হক ও বাতিলের মধ্যে সংমিশ্রন এছাড়াও ধোকা ষড়যন্ত্র বাতিলকে সুসজ্জিত করে দেখানো এবং মিথ্যা বিভিন্ন অর্থ দাজ্জাল শব্দের মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে। নবী করীম (সা.) বলেছেন দাজ্জালের আবির্ভাব এর পূর্বে তিনটি দুর্ভিক্ষের বৎসর আসবে উহাতে মানুষকে দুঃসহ অনাহার ও অনুসরণ ভোগ করতে হবে। প্রথম বছর আল্লাহর আদেশে এক-তৃতীয়াংশ বৃষ্টির বর্ষণ এবং পৃথিবী এক তৃতীয়াংশ শস্যাদি উৎপাদন বন্ধ করে দিবে দ্বিতীয় বছর দুই-তৃতীয়াংশের বৃষ্টি বর্ষণ কমে যাবে ও উৎপাদন দুই-তৃতীয়াংশ কম হবে।
![]() |
| দাজ্জাল আগমনের তিন বছর পূর্বে পৃথিবীতে যা ঘটবে |
আল্লাহর আদেশে আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেবে উহা হতে একবিন্দু বৃষ্টি বর্ষিত হবে না। সেই বছর আল্লাহর আদেশে পৃথিবীর সুস্বাধি উৎপাদন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাবে উহা হতে কোন সবুজ উদ্ভিদ এই উৎপন্ন হবে না ফলে আল্লাহ যে পশু কে জীবিত রাখতে চাইবেন তা ব্যতীত সকল তৃণভোজী পশুই ধ্বংস হয়ে যাবে। উপরের হাদিস অনুযায়ী বছর ইমাম মাহদীর আবির্ভাব ঘটবে তার আরো তিন বছর আগে থেকে প্রক্রিয়া শুরু হবে সে বছর আকাশ হতে বৃষ্টিপাত তিন ভাগের এক ভাগ কমে যাবে, তার পরের বছর বৃষ্টিপাত তিন ভাগের দুই ভাগ কমে যাবে, ফলে পৃথিবীতে ফসল উৎপাদন কম হবে। মানুষ এবং অন্যান্য জীব জন্তু ব্যাপকহারে মারা যেতে থাকবে। এর পরের বছর হাদিস অনুযায়ী কোন বৃষ্টিপাত হবে না ফলে মানুষ এবং জীবজন্তু কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়ে যাবে । সেই বছরই দাজ্জালের লোহার শিকল খুলে দেওয়া হবে এবং সে সারা পৃথিবীতে বিতরণ করবে এবং মানুষের সামনে এসেই ঈমান হরন করে নিবে। যেহেতু পরপর তিন বছর অনাবৃষ্টির ফলে পৃথিবীতে মানুষ ও জীবজন্তুর চরম খাদ্যাভাবে পড়ে যাবে তাই হাদিসে খাদ্য সঞ্চয় করে রাখার কথা বলা হয়েছে। দাজ্জালের ফিতনা হবে অনেক বড় মুসলমানদের ব্রাশ করবে আল্লাহ তার হাতে এমন কিছু আশ্চর্যজনক ক্ষমতা দান করবেন যার দ্বারা মানুষ পরীক্ষায় পড়ে যাবে। ইমরান হোসাইন রাঃ বলেন,আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি, হযরত আদম আঃ এর সৃষ্টি হতেই কেয়ামত কায়েম হওয়া পর্যন্ত দাজ্জালের ফিতনা অপেক্ষা কোন ফিতনা বৃহত্তর নয়।(মুসলিম শরীফ নম্বর হাদিস নং- ২৯৪৬)
উম্মে শারিক হতে বর্ণিত রাসূল সা. বলেন লোকেরা দাজ্জালের ফিতনা হতে পালাবে, এমনকি পাহাড়-পর্বত সমূহে গিয়ে আশ্রয় নেবে। (মুসলিম শরীফ নং - ২৯৪৫)
মানুষ খাদ্য ও পানির অভাবে যখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা তখন দাজ্জাল তার বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে এবং খাদ্যের ভান্ডার নিয়ে সুমধুর সুরে গান করতে করতে বিভিন্ন শহরের বন্দরে যাবে গান পাগলা মানুষ মধুর বাদ্যযন্ত্র শুনে বলতে থাকবে এই সুমধুর আওয়াজ কোথা থেকে আসছে। বিভ্রান্ত মানুষগুলো দলে দলে দাজ্জালের সামনে এসে হাজির হবে। দাজ্জাল ক্ষুধার্ত মানুষ গুলোকে খাদ্য ও পানি সরবরাহ করবে। মানুষ খাদ্য ও পানি পান করে তৃপ্ত হবে । দাজ্জাল তখন বলবে, আমি তোমাদেরকে খাদ্য ও পানি দান করেছি ও শান্তি দিয়েছি আমি কি তোমাদের প্রভু নই। বিভ্রান্ত মানুষ তখন সমস্যা বলবে হ্যাঁ তুমি তো আমাদের প্রভু তুমি না আসলে আমরা এই অবস্থা হতে বাঁচতে পারতাম না। নাউজুবিল্লাহ এভাবে তারা দাজ্জালের ফিতনায় পড়ে ঈমান হারাবে। সেই জমিনের খনিজ পদার্থ সব বের করে ফেলবে। হাদীসে আছে যে তার অবাধ্যতা করবে তাকে আগুনে ফেলে দেবে। অথচ এটি প্রকৃতপক্ষে জান্নাত যে তাকে অনুসরণ করবে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। যা প্রকৃতপক্ষে জাহান্নাম আল্লাহ পানা (মুসলিম শরীফ হাদীস নং- ২৯০৮)
দাজ্জালের অধিকাংশ অনুসারী হবে ইহুদি অনারব ও তর্কিদের মধ্যে হতে আবু বকর সিদ্দিক রা. থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বলেন, দাজ্জাল পূর্বাঞ্চলের খোরাসান এলাকা হতে বের হবে । এমন এক সম্প্রদায় তার আনুগত্য গ্রহণ করবে, যাদের চেহারা হবে ডালের ন্যায় চ্যাপ্টার মতো। (তিরমিজি শরীফের হাদিস নং- ২২৩৯)

ধন্যবাদ